ই-পার্টিসিপেশন ইনডেক্স বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

২৬ আগষ্ট, ২০২১ ১২:৩৫  
জাতীয় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের নাগরিকদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ই-পার্টিসিপেশন ইনডেক্স বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ (ইউএনডেসা)-এর যৌথ আয়োজনে গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং কাজাখস্তান ও ইয়েমেনের ই-পার্টিসিপেশন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কর্মশালাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মোঃ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মতো বাংলাদেশের জনগণের ই-পার্টিসিপেশন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের অধিকার অনুযায়ী তথ্য ও সেবা প্রদান, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরামর্শ নেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নাগরিকদের সম্পৃক্তকরণে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। এছাড়া জাতীয় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ই-পার্টিসিপেশন বিষয়ক অপরিহার্য কৌশলগত ও নীতিগত বিষয়সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জাতিসংঘের ই-সরকারি জরিপের একটি পরিপূরক সূচক হলো ই-পার্টিশিপেশন ইনডেক্স (ইপিআই)। বাংলাদেশ সরকার ই-তথ্য, ই-কনসালটেশন এবং ই-সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারকরণের মাধ্যমে ই-পার্টিসিপেশন নিশ্চিতকরণে সংকল্পবদ্ধ। ই-পার্টিসিপেশন ইনডেক্স-এ পয়েন্ট বাড়ানোর মধ্য দিয়ে অনলাইন সার্ভিস ইনডেক্স, ই-গভর্নমেন্ট র‍্যাংকিং, ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ইনডেক্স প্রভৃতি আন্তর্জাতিক জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সমুন্নত হবে এবং ২০৩০ সালে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, “দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে সকল নাগরিককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে ইনফো সরকার প্রকল্পের আওতায় আইসিটি বিভাগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যা ই-পার্টিসিপেশন সূচকের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।” ডিজিটাইজেশনের এই যুগে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো, তাদের বৈধতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সম্পৃক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ পন্থা হিসেবে ই-পার্টিসিপেশনকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মোঃ কামাল হোসেন বলেন, “ই-গভর্নেন্সকে টিকিয়ে রাখতে এবং এর অগ্রগতির জন্য, ই-পার্টিসিপেশন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। আইসিটি এই বিদ্যমান অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করছে এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে অন্যান্য এবং অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়বহুল পদ্ধতিসমূহ উদ্ভাবন করছে।” সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পার্টিসিপেশন-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র ও ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বজায় রাখা সমানভাবে সকলের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ ড. আব্দুল মান্নান। কর্মশালার শুরুতে সারাবিশ্বে বিভিন্ন দেশের ই-পার্টিসিপেশন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন ভিনসেনজো আকুয়ারো, ডিজিটাল গভর্নমেন্ট শাখা প্রধান, ডিপিআইডিজি, ইউএনডেসা এবং ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সচিব এবং যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক, এটুআই। ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, “ডিজিটাইজেশনের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার নাগরিকের স্বতন্ত্র ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই এবং ইউএনডেসার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি তথ্য ও সেবায় সকলের অভিগম্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নীতি-নির্ধারণে নাগরিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।” কর্মশালায় ই-পার্টিসিপেশন-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতি এবং চলমান কার্যপ্রক্রিয়া বিষয়ক বিস্তারিত উপস্থাপনা করতে গিয়ে এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজার জনাব আনীর চৌধুরী নাগরিক সম্পৃক্ততায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রয়োগের সক্ষমতা বিকাশের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে আলোকপাত করেন। এছাড়া কর্মশালায় ইউএনডেসা-এর ই-পার্টিসিপেশন প্রতিনিধি ওয়াই মিন ক্বোক, কাজাখস্তানের ই-পার্টিসিপেশন প্রতিনিধি ন্যাশনাল ইনফরমেশন টেকনোলজিস এর ই-গভার্নেন্স মেইন্টেন্যান্স বিভাগ প্রধান জনাব গুলমিরা ইসাবেকোভা এবং ইউএনডেসা-এর প্রতিনিধি (গভর্নেন্স অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিস-ডিপিআইডিজি) জনাব ডেনিস সুজার, বিশ্বে ই-পার্টিসিপেশন-এর অনুশীলন এবং অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে ই-পার্টিসিপেশন নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সম্পৃক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সংযোগ স্থাপনে বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণে নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।